Header Ads Widget

Responsive Advertisement

বিশ্বের সবচেয়ে গরিব ৫টি দেশ


অর্থনৈতিক ভাবে আমাদের এই পৃথিবীর প্রত্যেকটি মানুষের দৈনন্দিন স্বাভাবিক জীবন নিশ্চিত করার জন্য বিশ্বে পর্যাপ্ত পরিমাণে সম্পদ এবং সংস্থান রয়েছে। যে সম্পদ দিয়ে সমগ্র মানব জাতি জীবনযাত্রার একটি প্রাথমিক মান উপভোগ করতে পারবে। তবুও মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র, বুরুন্ডি বা কঙ্গোর মতো দেশগুলির জনগন দারিদ্র্যের অতল গহীনে বাস করে।

দারিদ্র্য, এ সম্পর্কে গণিতবিদ এলি খামারোভ বলেন, এটি আপনি যে অপরাধ কখনোই করেন নি তার জন্য শাস্তি পাওয়ার মতো একটি ব্যপার। স্বৈরাচারী এবং দুর্নীতিবাজ সরকারগুলি একটি ধনী দেশকে বিশ্বের অন্যতম দরিদ্র দেশে পরিণত করতে পারে।

একটি দেশ কতটা ধনী বা গরীব এটা নির্ণয় করার স্বীকৃত পদ্ধতি হচ্ছে জিডিপি পার ক্যাপিটা। যা শীর্ষ ৫ দরিদ্রতম জাতির বর্তমান গড় $১,২৭৫ মার্কিন ডলার। এটি দুঃখজনকভাবে অবাক হওয়ার মতো নয় যে বিশ্বের ৫ টি দরিদ্রতম দেশ আফ্রিকাতেই অবস্থিত। আর বাংলাদেশ তালিকাতে ৫০ নম্বরে আছে। যেখানে ভারতের অবস্থান ৬৮ নম্বরে।

তাহলে বন্ধুরা চলুন, বিশ্বের সবচেয়ে দরিদ্র ৫টি দেশ সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।

১। বুরুন্ডি

মাথাপিছু জিডিপি $৭২৭ মার্কিন ডলার নিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে দরিদ্রতম দেশের তালিকায় ১ নম্বরে আছে পূর্ব আফ্রিকার এই দেশটি। হুতু-তুতসী জাতিগত দ্বন্দ্ব এবং গৃহযুদ্ধ দ্বারা জর্জরিত ছোট্ট এই স্থলবেষ্টিত দেশ গত বছরের পর থেকে এই র‌্যাঙ্কিংয়ে দু’বার পিছিয়েছে। রাজনৈতিক সঙ্কট দেশটিকে মন্দার দিকে ঠেলে দিয়েছে। এখানে দেশের প্রধান রফতানি পণ্য কফির উৎপাদনও হ্রাস পেয়েছে।
সর্বশেষ ইউএনডিপি বুরুন্ডি জরিপের তথ্য অনুসারে, দেশটির প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ দিনে মাত্র $১.২৫ বা ১০০ টাকারও কম খরচে তাদের দৈনন্দিন জীবন কাটাই। ফলস্বরূপ, দেশটির জনগণ নিত্যপ্রয়োজনীয় দামের ওঠানামা, রফতানি নিষেধাজ্ঞা এবং খাদ্য ঘাটতির জন্য অত্যন্ত দুর্বল।

২। সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক

স্বর্ণ, তেল, ইউরেনিয়াম এবং হীরা সমৃদ্ধ মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র একটি খুবই ধনী দেশ, যেখানে অত্যন্ত দরিদ্র লোকেরা বাস করে। তবে কয়েক দশক ধরে বিশ্বের দরিদ্রতম দেশের তকমা পাওয়া এই দেশটিতে সম্প্রতি কিছু উন্নয়ন দেখা যাচ্ছে।
১৯৬০ সালে ফ্রান্সের কাছ থেকে স্বাধীন হওয়ার পর প্রথমবারের মতো, ২০১৬ সালে দেশটিতে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেনঃ যিনি দেশটিতে সংখ্যালঘু মুসলমানদের সাথে সংখ্যাগুরু খ্রিস্টানদের যোগসূত্র তৈরি করতে বদ্ধপরিকর। তবে যদিও তাঁর সফল নির্বাচনকে জাতীয় পুনর্গঠনের দিকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসাবে ধরা হচ্ছে, কিন্তু দেশটির প্রায় ৭৫ শতাংশ দারিদ্র্য জনগোষ্ঠীকে পুনরুদ্ধারের পথ অনেকটাই দীর্ঘ হবে। দেশটিতে মানুষের মাথাপিছু আয় মাত্র $৭৪৬ মার্কিন ডলার।

৩। ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গো

১৯৬০ সালে বেলজিয়াম থেকে স্বাধীনতা অর্জনের পর থেকে কঙ্গো কয়েক দশক ধরে ধর্ষণকারী একনায়কতন্ত্র, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং অবিরাম সহিংসতার শিকার হয়েছে। তবে দেশটি এখন সম্পূর্ণভাবে ঘুরে দাড়াতে প্রস্তুতঃ ২৪ শে জানুয়ারী,  ২০১৯ সাল, কিংবদন্তি বিরোধী নেতা এতিয়েন তিশিসেকিদির পুত্র ফ্যালিক্স আন্তোইন তিশিসেকিদি শিলোম্বো নতুন রাষ্ট্রপতি হিসাবে নির্বাচিত হয়েছেন।

তার বিতর্কিত পূর্বসূরি জোসেফ কাবিলা- যিনি ২০০১ সালে তাঁর নিহত পিতার স্থলাভিষিক্ত হওয়ার পর থেকে দেশ শাসন করছিলেন, তিনি “গ্রেট আফ্রিকান যুদ্ধ”, যে যুদ্ধে প্রায় ৬০ লাখ মানুষের জীবন গিয়েছিল বলে ধরা হয়, সেই যুদ্ধ অবসানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তবে, যুদ্ধে বেঁচে যাওয়া মানুষের জীবন উন্নতিতে তিনি খুব কমই কাজ করেছিলেনঃ ফলাফলস্বরূপ দেশের ৭৭ মিলিয়ন জনসংখ্যার ৬০ শতাংশেরও বেশি লোক এখনও দিনে দুই ডলারেরও কম খরচে বেঁচে থাকে।
৮০ মিলিয়ন হেক্টর আবাদযোগ্য জমি এবং এক হাজারেরও বেশি খনিজ ও মূল্যবান ধাতুর খনিসহ ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গো গোটা আফ্রিকা মহাদেশের সবচেয়ে ধনী এবং ক্ষমতাশালী রাষ্ট্র হওয়ার ক্ষমতা রাখে। তবে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং স্থানীয় দুর্নীতি এই সম্ভাবনাকে হতাশ করে চলেছে। দেশটিতে জিডিপি পার ক্যাপিটা মাত্র $৭৯১ মার্কিন ডলার।

৪। মালাউয়ি

$১২৩৪ মার্কিন ডলার মাথাপিছু জিডিপি নিয়ে মালাউয়ি দরিদ্রতম দেশের তালিকায় ৪ নম্বরে আছে। এটি আফ্রিকার ক্ষুদ্রতম একটি দেশ, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে দেশটি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি উন্নতি এবং গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মাথাপিছু জিডিপি, যা ২০১০ সালে প্রায় $৯৭৫ ডলার ছিল তা বেড়ে ২০১৯ সালে $১২০০ ডলারে দাঁড়িয়েছে এবং ২০২৪ সালের মধ্যে $১,৫৮০ ডলারে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। দেশটির এই উন্নতি সম্ভব হয়েছে একটি স্থিতিশীল এবং গণতান্ত্রিক সরকারের কারনে।
তবুও, দেশটিতে দারিদ্র্য এখনও বিস্তৃত এবং দেশের অর্থনীতি মূলত বৃষ্টিপাত দ্বারা ক্ষতিগ্রস্থ ফসলের উপর নির্ভরশীল। ফলস্বরূপ, শহরাঞ্চলে জীবনযাত্রার মান উন্নত হওয়ার সাথে সাথে, গ্রামাঞ্চলে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা অত্যন্ত বেশি। সাধারণভাবে মালাউই একটি শান্তিপূর্ণ দেশ, ১৯৬৪ সালে ব্রিটেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা অর্জনের পর থেকে দেশটিতে স্থিতিশীল সরকার বিদ্যমান।

৫। নাইজার

সম্পূর্ণভাবে স্থলবেষ্টিত দেশটির প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা সাহারা মরুভূমি দ্বারা আবৃত এবং দ্রুত বর্ধমান জনগোষ্ঠী মূলত দেশটির বিদ্যমান ছোট আকারের কৃষির উপর নির্ভরশীল। একইসাথে দেশটি জলবায়ু পরিবর্তন এবং মরুকরণের হুমকির মধ্যে রয়েছে। দেশটিতে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা যেমন বেশি, তেমনি রোগ এবং মৃত্যুর হারও অত্যধিক। এখানে জিহাদি দল এবং ইসলামিক স্টেট এর সহযোগী বোকো হারামের সাথে সেনাবাহিনীর বারবার সংঘর্ষে হাজারো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। নাইজারের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালক- স্বর্ণ ও ইউরেনিয়ামের মতো মূল্যবান প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণও অস্থিরতা এবং পণ্যমূল্যের কম দামে ভুগছে।

এতসব দুঃসংবাদের মধ্যেও আশার কথা হচ্ছে,  পশ্চিম আফ্রিকার বৃহত্তম এই জাতি শেষ পর্যন্ত একটি নতুন রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক রূপান্তর পর্যায়ে প্রবেশ করেছে বলে মনে হয়। দেশটির ২০১১ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রবীণ বিরোধী নেতা মহামাদৌ ইসউফু বিজয়ী হন। তারপর থেকে দেশটিতে বিদেশী বিনিয়োগ, পানির সহজলভ্যতা ইত্যাদি নাগরিক সুযোগ সুবিধা বেড়ে চলেছে। যাইহোক, $১২৮০ মার্কিন ডলার মাথাপিছু জিডিপি নিয়ে দেশটি তালিকায় ৫ নম্বরে আছে।

Post a Comment

0 Comments