সামরিক বাহিনী

সমর শব্দের অর্থ হল ‘যুদ্ধ’। অনেক গুলা বিষয় নিয়েই একটি সমর তথা যুদ্ধ হয়। সেখানে যোদ্ধা থাকে, অস্ত্র থাকে, রণক্ষেত্র থাকে ইত্যাদী। সুতরাং কোন বিষয় যখন সমর তথা যুদ্ধের কোন একটি অংশ ধারণ করে তখন সেটাকে সমরের দিকে সম্বন্ধ করে সামরিক বলা হয়। যেমন জগৎ সংক্ররান্ত বিষয়কে জাগতিক বলা হয়।

বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড আধা সামরিক বাহিনী দু'টি সাধারণ সময়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকে। তবে যুদ্ধকালীন সময়ে এই বাহিনীদ্বয় যথাক্রমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং বাংলাদেশ নৌবাহিনীর অধীনে পরিচালিত হয়।

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি সামরিক বাহিনীর সর্বাধিনায়ক এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় হল প্রধান প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান যেখানে সামরিক আইন তৈরি ও বাস্তবায়ন করা হয়। সামরিক নীতিমালা এবং কূটনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা প্রদানের জন্য রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রীর একটি ছয় সদস্যবিশিষ্ট একটি উপদেষ্টা কমিটি রয়েছে। এই উপদেষ্টা কমিটির সদস্যরা হলেন- বাংলাদেশ সামরিক বাহিনীর অন্তর্গত তিন বাহিনীর প্রধান, সামরিক বাহিনী বিভাগের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিবগণ। এছাড়া এনএসআই, ডিজিএফআই, এবং বিজিবি এর সাধারণ পরিচালকগণ এই উপদেষ্টা পদের ক্ষমতাপ্রাপ্ত।

একটি রাষ্ট্রর সামরিক বাহিনী হলো ওই রাষ্ট্রের সরকার নিয়ন্ত্রিত প্রতিরক্ষা ও আক্রমণকারী বাহিনী এবং এর সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত সংস্থা সমূহ। রাষ্ট্রের পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্রনীতির উপর তাদের অস্তিত্ব নির্ভর করে।

সামরিক বাহিনীর ব্যবহার শিক্ষাকে সামরিক বিজ্ঞান বলে। ব্যাপক অর্থে, সামরিক বিজ্ঞান আক্রমণ ও প্রতিরক্ষাকে তিনটি “স্তরে” বিবেচনা করে: স্ট্র্যাটিজি ,অপারেশনাল এবং কৌশল। তিনটি স্তরেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য শক্তি প্রয়োগ ব্যবস্থা আলোচিত হয়।

সামরিক বাহিনী জবাবদিহিতাসহ সবকিছুই তাদের নিজস্ব আইনের ধারায় পরিচালিত হয় যার সঙ্গে আমাদের প্রচলিত আইনের অনেক পার্থক্য রয়েছে। আর সামরিক বাহিনীর বাইরে যা কিছু আছে তার সবই বেসামরিক এবং বেসামরিক সব কিছু সিভিল প্রশাসন ও আইন দ্বারা পরিচালিত হয়। সামরিক বাহিনীর আইন যেমন বেসামরিক ক্ষেত্রে প্রযোজ্য না, তেমনি বেসামরিক বা সিভিল আইন সামরিক বাহিনীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

১৯৭১ সালের ২১ নভেম্বর মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বাংলাদেশের সামরিক বাহিনী গঠিত হয়। এ কারণে এই দিনটিকে সশস্ত্র বাহিনী দিবস হিসাবে পালন করা হয়। এই দিনে বঙ্গভবন, ঢাকা, সামরিক বাহিনী সদর দপ্তর, ঢাকা সেনানিবাস এবং দেশের প্রতিটি সামরিক প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়ে থাকে।

আাধাসামরিক বাহিনী


আধাসামরিক বা প্যারামিলিটারি হলো একটি আধা সামরিকায়িত বাহিনী যাদের সাংগঠনিক গঠন, কার্যপদ্ধতি, প্রশিক্ষণ, উপসংস্কৃতি এবং প্রায়ক্ষেত্রে কার্যক্রমসমূহ পেশাদারী সামরিক বাহিনীর মত, কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারের সশস্ত্র বাহিনীর অংশ নয়।

বাংলাদেশের সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষা, আন্তঃরাষ্ট্র সীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধ এবং তৎসংশ্লিষ্ট কার্যাবলী সম্পাদনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ রাইফেলস্ পুনর্গঠনপূর্বক বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ নামে একটি আধা-সামরিক বাহিনী গঠন, উহার নিয়ন্ত্রণ, পরিচালনা, শৃঙ্খলা ও রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত বিদ্যমান আইন সুসংহতকরণপূর্বক উহা পুনঃ প্রণয়নকল্পে প্রণীত আইন।

বাংলাদেশের সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষা, আন্তঃরাষ্ট্র সীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধ এবং তৎসংশ্লিষ্ট কার্যাবলী সম্পাদনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ রাইফেল্স পুনর্গঠনপূর্বক বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ নামে একটি আধা-সামরিক বাহিনী গঠন, উহার নিয়ন্ত্রণ, পরিচালনা, শৃঙ্খলা ও রক্ষাণাবেক্ষণ সংক্রান্ত বিদ্যমান আইন সুসংহতকরণপূর্বক উহা পুনঃ প্রণয়নকল্পে বিধান করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়।

(১) বাংলাদেশের সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষা এবং আন্তঃরাষ্ট্র সীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধ নিশ্চিত করিবার উদ্দেশ্যে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ নামে একটি আধা-সামরিক (para-military) বাহিনী থাকিবে।

(২) এই বাহিনী উহার নিয়মিত এবং সংরক্ষিত অংশের সমন্বয়ে গঠিত হইবে।

(৩) বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৫২ অনুসারে শৃঙ্খলা বাহিনী যে অর্থে ব্যবহৃত হইয়াছে সেই অর্থে একটি শৃঙ্খলা বাহিনী হইবে।

(৪) এই আইন কার্যকর হওয়ার পূর্বে Bangladesh Rifles Order, 1972 (President's Order No. 148 of 1972) এর অধীন গঠিত ‘বাংলাদেশ রাইফেল্স’ বাহিনীর নাম, এই আইন কার্যকর হওয়ার পর, ‘বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ’ নামে অভিহিত হইবে এবং বাংলাদেশ রাইফেল্স বাহিনীর লোগোর পরিবর্তে ‘বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ’ এর লোগো প্রতিস্থাপিত হইবে।

মহাপরিচালক,

(১) বাহিনীর প্রধান হিসাবে একজন মহাপরিচালক থাকিবেন।

(২) মহাপরিচালক, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী হইতে, প্রেষণে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত শর্তে নিযুক্ত হইবেন।

বাহিনীর কার্যাবলী

(১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, বাহিনীর কার্যাবলী নিম্নরূপ হইবেঃ-

(ক) সক্রিয় কর্তব্য হিসাবে সর্বদা সীমান্তের নিরাপত্তা রক্ষা করা;

(খ) চোরাচালান, নারী ও শিশু এবং মাদকদ্রব্য পাচার সংক্রান্ত অপরাধসহ অন্যান্য আন্তঃরাষ্ট্র সীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধ করা;

(গ) যুদ্ধকালীন সময়ে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণে থাকিয়া উক্ত মন্ত্রণালয় কর্তৃক অর্পিত দায়িত্ব পালন করা;

(ঘ) অভ্যন্তরীণ আইন শৃঙ্খলা রক্ষার্থে প্রশাসনকে সহায়তা করা;

(ঙ) সরকার কর্তৃক অর্পিত অন্য যে কোন দায়িত্ব সম্পাদন করা।

(২) সরকার, প্রয়োজনে আদেশ দ্বারা, উপ-ধারা (১) এ বর্ণিত কার্যাবলী সুনির্দিষ্ট করিতে পারিবে।


বেসামরিক বাহিনী

Non-military ; civil-বেসামরিক, অসামরিক, সভ্য, শিষ্ট, ভদ্র, শিষ্টাচারপূর্ণ। civil- সভ্য, আইনসংক্রান্ত, শিষ্ট, বেসামরিক, অসামরিক, ভদ্র, শিষ্টাচারপূর্ণ, শিষ্টাচারযুক্ত, ঘরোয়া, গার্হস্থ্য, পৌরজন-সম্বন্ধীয়, অযাজনীয়, দেওয়ানি, মানবসমাজ সংক্রান্ত, নাগরিক সভ্যতা সংক্রান্ত, দেওয়ানি।

সামরিক হচ্ছে মিলিটারি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত কোন কিছু যেমন দেশের শাসনভার যখন মিলিটারি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় তখন তাকে সামরিক শাসন বলে তাছাড়া ক্যান্টনমেন্টের ভেতর ও সামরিক বাহীনির অধীনস্ত সবকিছুই সামরিক। আর সামরিক বাহীনির বাইরে যা কিছু আছে তা সবই বেসামরিক।
Previous Post Next Post